গোয়াঃ বাংলার জয়মাল্য গলায় নিয়ে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে ঘাসফুল শিবিরের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় গোয়ার মাটিতে পা রাখলেন তৃণমূল সুপ্রীমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের মুখেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোয়া পৌঁছেছেন তিনি ৷ তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সদ্য তৃণমূলে আগত লুইজিনহো ফালেইরো ৷ তাঁর তিনদিনের এই গোয়া সফর রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ৷ গোয়ায় মমতা নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি তৎপর হয়ে ওঠে ৷ কালো পতাকা প্রদর্শন, গো-ব্যাক ধ্বনি, জয় শ্রীরাম স্লোগান- করেন তাঁরা।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে হ্যাটট্রিকের পর জাতীয় স্তরে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধিতে সচেষ্ট চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির ৷ তাই শুক্রবার দিনটা সৈকত রাজ্যে ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই কাটবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ৷
দলীয়সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দিন শুরু করবেন মমতা ৷ ডোনা পলায় সকাল ১০টায় গোয়া তৃণমূলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরপর বেলা ১২ টায় মমতা পৌঁছে যাবেন বেতিমে ৷ সেখানকার স্থানীয় মৎসজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি ৷ কিন্তু শুক্রবার কর্মসূচি এখানেই শেষ নয় ৷এরপর বেলা ১টায় ফের ডোন পলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকছে পন্ডার মাঙ্গেশি মন্দির দর্শন ৷ বিকেল চারটেয় তিনি পৌঁছে যাবেন মহলসা নারায়ণী মন্দিরে ৷ সেখান থেকে বিকেল সাড়ে চারটেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের যাওয়ার কথা কুন্দাইমের তপোভূমি মন্দিরে ৷ শুক্রবার ব্যস্ত সূচির একদম শেষভাগে আবার ফিরবেন ডোন পলায় ৷ সেখানে বিকেল ৫টা ৪৫মিনিটে নাগরিক সমাজের (সিভিল সোসাইটি) সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন গোয়ার প্রাক্তন কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো ৷ কলকাতায় এসে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি ৷ তারপরেই গোয়ার রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা ৷ যদিও বৃহস্পতিবার গোয়ায় পৌঁছানো মাত্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালো পতাকা দেখায় বিজেপি ৷
অন্যদিকে, তৃনমূলের শাখা সম্প্রসারণের
উদ্দেশ্যে প্রথমেই বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরার উপর নজর পড়েছিল তৃণমূলের ৷ তার পর উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেওয়ার ছক কষতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ এরই মাঝে গোয়াতেও নজর দেয় তৃণমূল ৷ বাংলার বাইরে যতগুলি রাজ্যে তৃণমূল নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারবে ৷ ততই জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।এরআগে তৃণমূল অসম বা অরুণাচল প্রদেশের মতো বিভিন্ন রাজ্যে একটি বা দু’টি আসন জেতার জন্য লড়ছিল ৷ তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূল এখন যে রাজ্যে পা রাখবে, সেখানেই সরকার গঠনের চেষ্টা করবে ৷ রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ক্রমশ মলিন হয়ে চলা কংগ্রেসের বিকল্প হতে চাইছে তৃণমূল ৷ কারণ গোটা দেশে কংগ্রেসের যে জোরদার লড়াই দেওয়ার প্রয়োজন, তা পূরণ করতে পারছে না শতাধিক বছরের পুরনো দলটি ৷ অন্তত এমনটাই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ৷ তাই গোয়া বা ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলি থেকে তৃণমূলের উঠে আসা জাতীয় ক্ষেত্রে মমতাকে যে বাড়তি সুবিধা করে দেবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

0 Comments
Please do not enter any spam link in comment box